গত কিছুদিনে কতিপয় দুস্ট লোকের অব্যহত অপপ্রচার এবং নোংরা আক্রমণে এখন বস্তুত হতাশ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার। তিনি এখন এর জন্য নিজের কপালকে দায় করছেন। কারন তিনি যদি বেল ল্যাবের মত কোন প্রতিষ্ঠান এ দেশে গড়তেন তাহলে তার মেয়েকে এভাবে আমেরিকায় গিয়ে....থাক এ ব্যাপারে অনেকেই বলেছে, আমি আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিতে চাইনা। যাহোক এখন স্যার বিলম্বে হলেও ডিসিশন নিয়েছেন যেভাবেই হোক তিনি এই দেশে মানে বাংলাদেশে একটি "বেল ল্যাব" প্রতিষ্ঠা করবেন। আপনারা নিশ্চয় জানেন যার হারায় সেই ব্যাথা টের পাই। এই ধরুন জাফর স্যারের বড় ভাই হুমায়ন স্যারের কথা। তিনি এখন যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তখন দেশে কোন ক্যান্সার হাসপাতাল না থাকার কথা চিন্তা করছেন এবং তিনি বেঁচে আসলে একটা ক্যান্সার হাসপাতাল করবেন বলেও ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। যাক সেদিকে না যায়, আসি জাফর স্যারের "বেল ল্যাব" প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনায়।
বাংলাদেশ "বেল ল্যাব" এ জাফর স্যার উদ্ভাবিত বিশাল জাতের বেল "হট বেল" নিয়ে স্যারের রাজপথে ক্যাম্পেইন।
স্যার আজকে হটাত আমাকে ডেকে বললেন, শৈল্পিক তোমার নাম শুনলাম আমার এক ছাত্রের কাছে, সে বল্লো তোমার মাথা নাকি ব্রিটিশ মাথা, নানা (কু)-চিন্তায় ভরপুর। আচ্ছা আমাকে একটা বুদ্ধি দাওতো কিভাবে আমি এই চলমান ইমেজ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি। আমিতো অবাক স্যার আমার মত সামান্য নাখান্দা ব্লগারকেও দাম দেওয়া শুরু করলো। তো আমি স্যারকে বললাম, স্যার এজন্য আপনাকে আমি একটা বুদ্ধি দিতে পারি, আপনি ইয়েশিমকে দেশে এনে একটা মাদ্রাসা ছাত্র থেকে বিবাহ দিয়ে দিন। স্যার আমার বা গালে একটা থাপ্পড় দিলেন। তারপর আমি বললাম স্যার বুঝেছি আপনার পছন্দ হয়নি আমার বুদ্ধি। দাঁড়ান আরেকটা দিচ্ছি। আপনি এক কাজ করুণ, যেহেতু আপনি ঢাবিতে প্রদর্শনীতে বোরকার ব্যাপারটা আপনার নজরে এনেচিলেন আপনার বউ, যার কারনেই আপনাকে কলামে বোরকা নিয়ে টান দিতে হয়েছে, সেহেতু আপনার ওয়াইফ এরজন্য ১০০ ভাগ দায়ী। সুতারাং এখন থেকে ইয়াসমিন ম্যাডামকে বোরকা পড়ানো হোক। স্যার দিলেন আমার ডান গালে থাপ্পড়।
তারপর আমি বোবা হয়ে যায়, তবে কানে শুনচিলাম।
বাংলাদেশ "বেল ল্যাবে" জাফর স্যার উদ্ভাবিত প্রজাতি "হট বেল" গাছে ঝুলছে।
স্যার আরেক ছাত্রকে বললেন, দেশে "ধান ল্যাব"((BARI)) আছে, "পাট ল্যাব"((BJRI)) আছে, এমনকি "আখ ল্যাব"(BSRI) তাহলে এই দেশে "বেল ল্যাব" করতে সমস্যা কি। ছাত্রতো জাফর স্যারের একনিষ্ঠ খাদেম, সে আরো একধাপ এগিয়ে বললো, স্যার এজন্যিতো আমি আপনার এত ভক্ত, আপনি দেশের জন্য কত চিন্তা করেন, এমনকি দেশের ছোট ছোট "বেল" নিয়েও আপনার কত চিন্তা। অবশ্যই "বেল ল্যাব" করা উচিত স্যার। দেশের বেলগুলো দেখছন স্যার কি ছোট ছোট। আমরা যদি "বেল ল্যাবে" গবেষণা করে উন্নত প্রজাতির বড় বড় "বেল" একবার আবিষ্কার করেই ফেলি তাহলে কি হবেন ভাবছেন স্যার। লোকে তখন বড় বড় বেল বাজার থেকে কিনে বলবে এটা হল "জাফর বেল"। স্যার আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, দেখ শৈল্পিক তুই কর বড় বোকা, আমার ছাত্রকে বলা মাত্র বুঝে ফেলেছে, লোকে কি তোকে এমনিতেই ছাগু বলে। যাক এবার স্যার ভবিষ্যৎ "বেল ল্যাব" নিয়ে বলা শুরু করলো তার প্রানপ্রিয় ছাত্রকে, হুম তুমি ঠিক ধরেছ। এ দেশের বেল গুলো এখনো সেকেলেই রয়ে গেছে, আজ থেকে ৬০ বছর আগে যে বেল নানার বাড়িতে দেখেছি, খেয়েছি সেই একই বেল এখনো দেখছি খাচ্ছি। কিন্তু আমি বেল বলতে দেখতে চাই "রঙ্গিন রঙ্গিন ফুলা ফুলা বেল, যা দেখলেই একটা সেনসেশসেন সৃষ্টি হবে তা খাওয়ার জন্য"। এছাড়া ছোট বেল বড় করতে আমরা কাজ করবো যাতে এক বেল দিয়েই অনেক গ্লাস শরবত বানানো যায়। তাছাড়া তুমিতো নিশ্চয় জানো, এদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে কুষ্ঠকাঠিন্য ভোগে, আর বেল এটি দূর করতে কার্যকরী। আর এসব গবেষণা সম্ভব করতে হলে দেশে সবার আগে প্রয়োজন একটা "বেল ল্যাব" স্থাপন। এতে এক ডিলে দুই পাখি মারা হবে।ছাত্র বল্লো কি কি স্যার??
স্যার বললেন এক, আমার বোরকা এবং ইয়েশিম নিয়ে যে ইমেজ ছিনতাই হয়েছে তা খুব সহজে উদ্ধার হবে।
দুই, তোমরা যারা আমার মত আমেরিকায় গিয়ে "বেল ল্যাবে" গবেষণার স্বপ্নে আছো তাদের আর আমার মত এতদুর গিয়ে কষ্ট করে যেতে হবেনা। কারন ঘরের কাছেই "বেল ল্যাব" থাকতে ইয়েশিমের মত রিস্ক কেউ নিতেই চাইবেনা।
ছাত্র, বলে উঠলো, ওয়াও স্যার আপনার মাথাই এত বুদ্ধি, লোকে এজন্যিতো আপনাকে গরু মানে।
Bell Laboratories at Murray Hill, New Jersey, USA
-শৈল্পিক ভাবনা (http://www.amarbornomala.com/details10275.html)
জাফর স্যারের ব্যাপারে হিটলারের রিএকশনের একটা ভিড্যু..




0 comments:
Post a Comment