মাঠে মৃদু উষ্মা প্রকাশ করছেন আবাহনীর সমর্থকরা
আবাহনীকে হারিয়ে একদিকে পৈশাচিক আনন্দ করছে রহমতগঞ্জের মানবতাবিরোধী পিশাচরা। দানবের চিতকার মুহাহাহাহাহাহা। ওদিকে মাঠের ভেতর ঢুকতে শুরু করে দিয়েছে উত্তেজিত ন্যায়ের পতাকাধারী আবাহনীর চেতনার সমর্থকেরা। একজন মাঝমাঠ দিয়ে রেফারি কক্ষের দিকে দৌড়ে গেলেন চেতনার রক্ষার সদা জাগ্রত প্রহরী হিসেবে। পুলিশের পেছন পেছন গিয়ে এক ফাঁকে কক্ষে ঢুকতে সমর্থ হলেন অবশেষে । পুলিশদের তখন খুব জোর কান চুল্কাচ্ছিল। তাই তারা আয়েশ করে মুরগির ফোইড় দিয়ে কান খুচাচ্ছিলেন। আয়েশে বুজে আসছে চোখ। উমমহ!
গ্যালারি থেকে সমর্থকেরা রহমতগঞ্জের উপর রহমতের জুতাবৃষ্টি করছেন। ভিআইপি গ্যালারিতে ছুড়ছেন ইটপাটকেল। তাদের একজন বলল এই ভিআইপি গ্যালারী সব বুর্জোয়াদের জায়গা, সব আজকে পিটিয়ে সমান করব। শ্রমিক-মালিক সমান। কিছুক্ষণ পর হাতুড়ি, লাঠি আর বেল্ট হাতে একজন জাগ্রত বীর খুঁজতে থাকেন ফেডারেশন কর্মকর্তা ও কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমিকে। কোচকে বাঁচাতে গিয়ে খুব মৃদু আঘাত পান অমিত খান (শুভ্র)। তার মাথাটা বেশ করে ফেঁটে যায়। অবশ্য তিনি চেতনার মহান প্রয়োজনে এই মামুলি মৃদু ব্যাথা মেনে নিয়েছেন।
এর আগে খেলার ২৮ মিনিটে রহমতগঞ্জের অধিনায়ক ইদ্রিস কাসারি বক্সের ভেতরে বল নিয়ে ঢুকতেই তাঁকে সামান্য হালকা মৃদু ধাক্কায় চিত করে ফেলে দেন গোলরক্ষক সোহেল। পেনাল্টি। এত মৃদু ধাক্কায় কেউ চিত হয়না, আর রেফারীও বলিহারী দিয়ে দিল পেনাল্টি। সবকিছু দেখে আগেই বোঝা যাচ্ছিল সব পূর্বপরিকল্পিত। রহমতগঞ্জের বিপৎসীমানায় ঢুকে পড়া ফ্রাঙ্ককে ৩০ মিনিটে ফেলে দেন রহমতগঞ্জের গোলরক্ষক ইরান। পেনাল্টি, ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায় আবাহনী। কিন্তু ফ্রাঙ্কের শট ফিরিয়ে দেন ইরান। ফ্রাঙ্ক বলেছেন, পুলিশদের আয়েশ করে কান চুল্কানো দেখে তারও কান চুলকে উঠেছিল। তাই তিনি মনোযোগকে বেঁধে রাখতে পারেননি। পুলিশ কেন সেসময় কান চুলকাচ্ছিল তা খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ ফালতু ফুটবল ফেডারেশন (বাফাফুফে) একটি একত্রিশ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছে।
ম্যাচ শেষে হতাশ মাজায় বেদনা যুক্ত আবাহনী কোচ আলী আকবর দুষলেন রেফারিদের, ‘বাংলাদেশের রেফারিদের মান যে অনেক খারাপ সেটা আরও একবার প্রমাণিত হলো। এসব নালায়েক রেফারি না বোঝে ফুটবল আর না আছে এদের কোনো চেতনার মূল্যবোধ। এদুটার মিনিমাম একটা থাকলে তো আজ খেলার ফল পালটে যেত”।





0 comments:
Post a Comment