শিলাইদহে কবে হবে দ্বিতীয় বৌদিনিকেতন?

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দ্বিতীয় বৌদিনিকেতন গড়ে তোলা হবে—এখনো তার অপেক্ষায় দিন গুণছে জেলার মানুষ। জেলার বৌদিরাও অস্থির। জেলার শিলাইদহে রয়েছে রবীন্দ্র-গন্ধধন্য গিবাড়ি। কবিগুরু দুই বছরেরও বেশি সময় এখানে থেকেছেন। বৌদিরা এয়েচেন। কত রস করেছেন। কুঠিবাড়ি ও পদ্মার বুকে নৌকায় বসে রচিত হয় তাঁর সোনার তরী, ক্ষণিকা, খেয়ার অধিকাংশ কবিতা এবং গীতাঞ্জলি ও গীতিমাল্য-এর গান। দুই বিঘে জমির ঘটনাটি আসলে ছিল এখানে ঘটে যাওয়া তার জীবনের এক অনবদ্য বাস্তবধর্মী ক্লাসিক বিনোদন। উপেন চরিত্রটির বংশধররাও সব ভূলে আবার জমি বিকিয়ে দিতে রাজি আছে। তবু বৌদিনিকেতন চাই ই চাই।

তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে নৌকায় শিলাইদহ আসতেন। এখান থেকে পতিসর ও শাহজাদপুরের কাচারিতে গিয়ে খাজনা আদায় করতেন। যেহেতু কবি খাজনা আদায় করতেন সেই থেকে কবির গুনে লুম্পেনরা পবিত্র হয়ে গেল। আমাদের কম্রেড মতি ও এরপর থেকে খাজনা আদায় শুরু করে দিয়েছেন। সে যাকগে যা বলছিলুম। পিতামহের মালিকানাধীন জমিদারি দেখাশোনার জন্য রবীন্দ্রনাথ ১৮৮৯ সালের নভেম্বরে প্রথম শিলাইদহ আসেন। শিলাইদহেই কবি ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ শুরু করেন। অতি সরেস কাব্য। বৌদির খুব পছন্দের।


শিলাইদহ বাজারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক মুক্তিযোদ্ধা নাসিম উদ্দিন মালিথা আরজুতালিকে জানাইছিলেন, ১৯৭২ সালে কলকাতার গড়ের মাঠে এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, শিলাইদহ গিবাড়িতে বিশ্বভারতীর আদলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। নাসিম উদ্দিন মালিথা আরও জানান, ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ইত্তেফাক পত্রিকায় বাসস সূত্রে এ খবর ছাপা হয়েছিল। ইত্তেফাক চিনেছেন তো নাকি ভূলে গেলেন? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন যা কিনে বিছিয়ে বসেন। আজ্ঞে ঐটেই। তো সে যা বলছিলুম ইত্তেফাক-এ প্রকাশিত সেই খবরের অংশটুকু আজও সযত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছেন নাসিম উদ্দিন মালিথা। যদিও একবার বন্যায় মালিথার লেপ তোষক অন্তর্বাস সব ভিজে গিয়েচিল কিন্তু জাতির ড্যাডির কবিগরু সংক্রান্ত এই ব্যাপক মূল্যবান রতি-পাথরতূল্য কাগজের কপিটা পাছুতে বেঁধে ছুটে চলছিলেন গিবাড়ির দিকে। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির স্বার্থে শিলাইদহে বৌদিনিকেতন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

আমিরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, এখানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হলে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার বাস্তবায়ন হবে। বঙ্গবন্ধুর আত্না শান্তি পাবে। এমনিতেই কুত্তালীগের কামড়াকামড়ীতে তার আত্না অনেক কষ্টে আছে। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর শিলাইদহের গিবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ করছে। প্রতিবছর ২৫ বৈশাখে রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এখানে দুই দিনব্যাপী বিশেষ এক রসালো মেলা হয়।

প্রায় ১১ একর জমিতে নির্মিত গিবাড়ির চারপাশে প্রাচীরঘেরা। বাইরে থেকে দেখলেই কেমন রসে টইটম্বুর মনে হয়। মনে হয় এই বুঝি বৌদি উঁকি দিল। এখানে রয়েছে আম, কাঁঠালসহ গাছপালা ফুলের বাগান ও বৌদির স্মৃতি। কবি যে পুকুরপাড়ে বসে লিখতেন, সেখানে এখনো আছে সেই সময়ের লাগানো বকুলগাছ। কবি যেখানে াল ছিঁড়তেন সেখানে আজো রয়ে গেছে জং ধরা ক্ষুর। একটু ধার দিলেই হবে। কবিগরু যে হাগনকুঠিতে বসে হাগতেন সেখানে আছে আজো অমলিন ঘ্রাণ। আহ! কম্রেড মতির জন্য সেই ঘ্রান কিছুটা বোতলে পুরে নিয়ে চললুম ট্রেন ধরতে...আর তর সয় না..

3 comments:

:P said...

hihihiihihhi :D

Anonymous said...

khek! khek! হাহামগে! =)) =))

যাযাবর পাখি said...

য়ামি সেখানে পড়তে যাব। :P

Post a Comment